![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আলটিমেটামের মুখে অবশেষে আগামী সোমবার শাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও নির্বাচন কমিশন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম।
বুধবার বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ঢাকায় প্রশাসনিক কাজে আছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবির বিষয়ে আমরা স্যারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার ঢাকা থেকে ফিরে এসে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন এবং রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।
তিনি আরও বলেন, উপাচার্য স্যার আশা প্রকাশ করেছেন যেন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে। আমরা আশাবাদী, সোমবারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি শতভাগ পূর্ণতা পাবে।
এর আগে বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষার্থীবৃন্দ, শাবিপ্রবি’ ব্যানারে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা শ্লোগান দেন—
“শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার”,
“শাকসু ইন নভেম্বর, রিমেম্বার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন”,
“শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না”,
“শাকসু দিলে প্রশাসন, না দিলে প্রহসন।”
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বহুবার শান্তিপূর্ণভাবে প্রশাসনের কাছে শাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন বারবার মৌখিক আশ্বাস দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শাকসু নিয়ে আর কোনো টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের ঘোষণার পর বিকেল সোয়া চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, সোমবারের মধ্যে রোডম্যাপ ও কমিশন ঘোষণা না হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে।
এর আগে ১৯ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেন এবং প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তারা বুধবার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে শাকসুর গঠনতন্ত্র পুনঃপ্রণয়ন করা হলেও নির্বাচন কমিশন গঠন ও তফসিল ঘোষণার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।
উল্লেখ্য, আগের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী গত আগস্টে জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলনে নামেন।
সবশেষে প্রশাসনের আশ্বাসে শাবিপ্রবির ক্যাম্পাসে আপাত শান্তি ফিরলেও, শিক্ষার্থীরা এখন সোমবারের ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছে—যে দিন হয়তো এক দশক পর আবার আলোর মুখ দেখবে শাকসু।